বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:
চীনের লিশুই শহরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ওয়ার্ল্ড স্কেট এশিয়া স্পিড ট্র্যাক সিরিজের জুনিয়র ক্যাটাগরিতে অংশ নিয়ে একাই দুটি রৌপ্য পদক জিতেছেন রূপগঞ্জের মেয়ে সাওয়ানা খন্দকার।
এ নিয়ে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও ক্লাব পর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ২৯টি শিরোপা অর্জন করেছেন দশম শ্রেণির ছাত্রী ও স্পিড স্কেটার সাওয়ানা খন্দকার।
চীনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক রোলার স্কেটিং প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ২ হাজার দক্ষ স্কেটার অংশ নেন। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জুনিয়র-বি নারী বিভাগে ২০০ মিটার ডিটিটি ও ৫০০ মিটার ডি ইভেন্টে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন সাওয়ানা।
ওয়ার্ল্ড স্কেট এশিয়া স্পিড ট্র্যাক সিরিজের জুনিয়র ক্যাটাগরির ওই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ মোট ৩টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ১২ জন খেলোয়াড় চতুর্থ থেকে অষ্টম স্থান অর্জন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন।
এই সাফল্য ও পারফরম্যান্সের ফলে এশিয়া মহাদেশের র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ অষ্টম স্থান অর্জন করে।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে সিনিয়র পুরুষ বিভাগে মাহমুদ হোসাইন ১ হাজার মিটার রেসে রৌপ্য পদক অর্জন করেন। জুনিয়র-এ পুরুষ বিভাগে ইরাব মুক্তাদির ৫ হাজার মিটার রেসে রৌপ্য পদক এবং ২০০ মিটার ডিটিটি-২ ও ৫০০ মিটার ডি ইভেন্টে দুটি ব্রোঞ্জ পদক জেতেন।
সাওয়ানা খন্দকার বর্তমানে ঢাকার ওয়ারীতে নিজ বাসভবনে বসবাস করেন। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রামে।
তিনি মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি স্কেটিংয়ের প্রতি অদম্য আগ্রহ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ তিনি বাংলাদেশের জন্য অসামান্য সাফল্য বয়ে এনেছেন।
২০১৫ সাল থেকে স্কেটিং শুরু করেন সাওয়ানা। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও ক্লাব পর্যায়ে অর্জন করেছেন একাধিক সাফল্য।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবারই প্রথম চীনের লিশুই শহরে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। অর্জন করেন দুটি রৌপ্য পদক।
জাতীয় পর্যায়ে ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে ন্যাশনাল ও বাংলাদেশ গেমসে অংশ নিয়ে দুইবার প্রথম ও একবার দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন সাওয়ানা। ক্লাব পর্যায়েও তিনি একাধিকবার প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।
চীনে স্কেটিংয়ে নিজের সাফল্য নিয়ে সাওয়ানা খন্দকার বলেন,
“এবারের আন্তর্জাতিক জয় শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি বাংলাদেশের অর্জন। আগামীতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা অলিম্পিকেও সাফল্য বয়ে আনবে বলে আমি আশাবাদী।
সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি স্বনামধন্য রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে চাই। এক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি পরিবারের সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে পড়াশোনার পাশাপাশি স্কেটিং চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার মা মোরশেদা ইয়াসমিন ও বড় বোন সুরাইয়া খন্দকারের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ, তিনিই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন।”
সাওয়ানা খন্দকারের এই অর্জনে খুশি তার জন্মভূমি নোয়াপাড়ার সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়া রূপগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সাওয়ানা খন্দকারের এই অর্জনের জন্য রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সংবর্ধনা দেওয়া হবে কি না, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।